‘প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন উন্নত না হয়’

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন ভারতের হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যাতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি না হয়।
বিজ্ঞাপন
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন সকালে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি— বাংলাদেশের সঙ্গে যে পরিস্থিতি আগে ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্ক যেন উন্নত না হয়।”
ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি ও কথিত অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেন। তার দাবি অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় যাদের ‘পুশ-ব্যাক’ করা হয়, তাদের অনেককে নির্দিষ্ট সময় নিজেদের হেফাজতে রেখে পরে সুযোগ বুঝে ফেরত পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সীমান্তে থাকা দুই দেশের বাহিনীর সমন্বয়ের অভাবে অনেক সময় কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি কঠোর থাকলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর থাকে, আর সম্পর্ক নরম হলে নজরদারি শিথিল হয়ে যায়।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউকে ফেরত পাঠাতে হলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ দীর্ঘ প্রশাসনিক ধাপ অনুসরণ করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। ফলে বাস্তব পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিজ্ঞাপন
তার বক্তব্যে উঠে আসে একটি পুরোনো আইনও, অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০, যা তিনি পুশ-ব্যাক প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই আইন দিয়ে সরাসরি পুশ-ব্যাক করা যায় না এবং এটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল।
এদিকে, আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সীমান্ত থেকে এভাবে ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের সীমান্ত এলাকা থেকে মানুষকে আটক ও ফেরত পাঠানোর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে পরে প্রমাণিত হয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, যাদের পরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল সময়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি রাজনৈতিক বক্তব্য, আবার কেউ মনে করছেন সীমান্ত ইস্যুর বাস্তব জটিলতাই এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক জটিলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: বিবিসি বাংলা








