বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে, বললেন ইরান

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। এ পরিস্থিতিতে ইরান বলছে, লড়াই চালিয়ে যাওয়া নাকি আলোচনায় ফেরা—সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেখানে হরমোজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় ছিল। তবে ওই প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার কথা বলা হয়েছিল।
এর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি নতুন শান্তি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে কিছু অগ্রগতি থাকলেও তিনি এখনো সন্তুষ্ট নন।
বিজ্ঞাপন
এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চায় নাকি যুদ্ধে ফিরতে চায়, তা এখন তাদের বিষয়। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেছেন, কূটনীতির পথ বেছে নেওয়ার বা সংঘাত অব্যাহত রাখার—বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ ৮ এপ্রিল থেকে স্থগিত রয়েছে। এরপর পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ আগের একটি প্রস্তাবে কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছেন; যার মাধ্যমে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে আলোচনার সময় তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম না সরায় বা সেখানে কার্যক্রম শুরু না করে, সেই দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিজ্ঞাপন
পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়াও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালির অবরোধ। এদিকে, ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় সাগরে মার্কিন কার্যক্রমকে জলদস্যুতার সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
অবরোধের আওতায় থাকা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হেলিকপ্টার অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতো। আমরা জাহাজটিতে নেমেছি এবং সেটি দখলে নিয়েছি। আমরা এর কার্গো ও তেল নিয়ে নিই। এটি খুবই লাভজনক ব্যবসা।
বিজ্ঞাপন
মিত্রদের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি ফোনে তেহরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন জানান এবং সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান, যাতে আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বিজ্ঞাপন
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমোজ প্রণালির উত্তেজনা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র হামলা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: ডন।








