যুদ্ধ অবসানের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের প্রতীক: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। এ মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গালিবাফ বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো চাপ বা জবরদস্তির ফল নয়। বরং এটি ইরানি জনগণের প্রতিরোধ, দৃঢ়তা ও জাতীয় সক্ষমতার প্রতিফলন।
স্পিকার বলেন, “এই কারণেই ইসলামাবাদ সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই অঞ্চলের দেশগুলোরই। তিনি বলেন, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি; বরং তা অনেক ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানি স্পিকার আরও বলেন, “আমরা এই অঞ্চল থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করি। কারণ তারা টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
বাকুতে দেওয়া তার এই বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাত চলাকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে এসব ঘাঁটি পরিচালনাকারী দেশগুলোও ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
গালিবাফ বলেন, “আমরা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে সংঘাতের নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে দেখতে চাই।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। তার ভাষায়, “লেবাননে যুদ্ধবিরতি আমাদের কাছে ইরানের যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। লেবাননে সংঘাতের অবসান এবং ইরানে যুদ্ধের অবসান—দুই বিষয়ই সমান গুরুত্ব বহন করে।”
সূত্র: এএফপি








