ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা রোগী শনাক্ত, আক্রান্ত চিকিৎসক

আফ্রিকার বাইরে এবার প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) থেকে ফ্রান্সে ফিরেছেন।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে ইবোলা আক্রান্ত প্রথম রোগী হিসেবে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রথম ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআরসির ইবোলা নদী সংলগ্ন এলাকায় শনাক্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বন্য প্রাণী—বিশেষ করে বাদুড়ের মাধ্যমে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, বীর্যসহ শরীরের বিভিন্ন তরল পদার্থ কিংবা দূষিত কাপড়-চোপড় ও ব্যবহৃত সামগ্রীর সংস্পর্শে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর রোগী অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম হন।
ইবোলার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, তীব্র দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। ভাইরাসটির সুপ্তিকাল সাধারণত ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গো ও প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ডিআরসির ইতুরি প্রদেশে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে ইবোলার বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ ধরন শনাক্ত হয়েছে, যার জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, উগান্ডায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রোগী কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও পৌঁছানোয় পুরো অঞ্চলের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না হওয়ায় পরিস্থিতিকে এখনো মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। একই সঙ্গে সংস্থাটি দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি








