Logo

তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতে হইচইয়ের দরকার নেই: চীনা মিডিয়া

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ জুন, ২০২৬, ১৭:৩৩
তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতে হইচইয়ের দরকার নেই: চীনা মিডিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতের কিছু মহলে যে উদ্বেগ ও আলোচনা দেখা যাচ্ছে, তা অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস। পত্রিকাটির এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, সফরটি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ঢাকার অগ্রাধিকারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত করবে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প খাতের বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

বিজ্ঞাপন

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চালুর পর চীনের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিও বেড়েছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সংলাপের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে সফর

গ্লোবাল টাইমসের মতে, বাংলাদেশের এই সফর এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক জোরদারের ধারাবাহিকতার অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, তাজিকিস্তান ও ব্রুনাইয়ের শীর্ষ নেতারাও চীন সফর করেছেন। এসব সফর চীনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি আঞ্চলিক দেশগুলোর আগ্রহের প্রতিফলন বলে মনে করছে বেইজিং।

ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়। তবে ভারতের কিছু গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গ্লোবাল টাইমস এ ধরনের মনোভাবকে ‘বিগ ব্রাদার মেন্টালিটি’ বা ‘দাদাগিরি মানসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত এবং তা কোনো দেশের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

চীনা সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, বেইজিং যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, তেমনি ভারতের সঙ্গেও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নকেও ইতিবাচকভাবে দেখে চীন।

বিজ্ঞাপন

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে এবং এসব সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

সূত্র: গ্লোবাল টাইমস

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD