Logo

৩০ দিনের মধ্যে ১৪ দফার প্রস্তাবে স্থায়ী সমাধান চায় ইরান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ মে, ২০২৬, ২০:৫৫
৩০ দিনের মধ্যে ১৪ দফার প্রস্তাবে স্থায়ী সমাধান চায় ইরান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও অমীমাংসিত বিরোধের স্থায়ী সমাধানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো ১৪ দফার একটি প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট করেছে, তাদের লক্ষ্য কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের সম্পূর্ণ অবসান নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৩ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা পরিকল্পনার জবাব হিসেবেই তেহরান এই বিস্তৃত ১৪ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবে ইরান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি হ্রাস বা প্রত্যাহার, এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিন সপ্তাহ ধরে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতিও এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।

রবিবার ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে একাধিক দফা আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল ওমান।

বিজ্ঞাপন

ইরানের প্রস্তাবের দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তেহরান ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণ করে পুনরায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে। এটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরান এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের সামরিক বা প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে না।

তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অবস্থানও পরিষ্কার করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, ধ্বংস করা বা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার যে কোনো দাবি তারা মেনে নেবে না। অর্থাৎ, পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রেখেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় দেশটি।

বিজ্ঞাপন

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে ইরানের জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রস্তাবের তৃতীয় ধাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এতে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। এর লক্ষ্য হবে গোটা অঞ্চলের জন্য একটি সমন্বিত ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD