Logo

তামিলনাড়ুতে ৪৯ বছরের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন থালাপতি বিজয়

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ মে, ২০২৬, ২০:০৯
তামিলনাড়ুতে ৪৯ বছরের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন থালাপতি বিজয়
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে যদি শেষ পর্যন্ত থালাপতি বিজয়ের দল জয় পায়, তাহলে তা ৪৯ বছরের এক রাজনৈতিক ধারা ভাঙার ঘটনা হবে। ১৯৭৭ সালে এম জি রামাচন্দ্রনের পর কোনো চলচ্চিত্র তারকা আর একক জনসমর্থনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। সেই ধারাই এবার বদলে দিতে পারেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

বিজ্ঞাপন

১৯৭৭ সালে এম জি রামাচন্দ্রন বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করেন। তার জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের ঘটনা তখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছিল। পরে যদিও আরও কিছু তারকা রাজনীতিতে এলেও একইভাবে একক জনসমর্থনে শীর্ষ পদে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এবারের নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) প্রায় ১০০ থেকে ১১৮টি আসনে এগিয়ে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন—যা পেলে ইতিহাস গড়বে দলটি।

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সাল থেকেই ভক্তদের সংগঠিত করে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেন বিজয়। তিনি গড়ে তোলেন ‘বিজয় মাককাল ইয়াক্কাম’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক, যা ত্রাণ, শিক্ষা সহায়তা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে কাজ করত।

২০১১ সালে এই নেটওয়ার্ক প্রকাশ্যে রামাচন্দ্রনের এআইএডিএমকে দলকে সমর্থন দেয়। এটিকেই তার রাজনৈতিক যাত্রার প্রথম সংগঠিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী বছরগুলোতে সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে থাকেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে তার সমালোচনা আলোচনায় আসে।

২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করেন টিভিকে এবং ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, কোনো জোট ছাড়াই।

দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন তিনি। প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে তার ৭০টির মতো সিনেমা মুক্তি পায়।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে তার স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে সংগঠিত করে দলীয় কাঠামোতে রূপান্তর করা হয়—জেলা কমিটি, আসনভিত্তিক ইউনিট এবং বুথ পর্যায়ের সংগঠন তৈরি করা হয়।

দলের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ইত্যাদি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে পথচলা পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে টিভিকের এক জনসমাবেশে পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা দলটির সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাই তার নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। যদিও পরে এ বিষয়ে তার বক্তব্যে সংকট ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে এবার যদি থালাপতি বিজয় শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন, তবে তা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD