প্রবীণ নেতার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন মোদি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেই ৯৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ বিজেপি নেতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৯ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতায় আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা মাখন লাল সরকার। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি তার কাছে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নেন। পরে তাকে আলিঙ্গনও করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
মাখন লাল সরকার শিলিগুড়ির বাসিন্দা এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাচীনতম নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মাখন লাল সরকার ছিলেন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। কাশ্মীর সফরের সময়ও তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে ছিলেন। সেই সফরেই রহস্যজনক পরিস্থিতিতে কারাগারে মারা যান শ্যামাপ্রসাদ।
তিনি বলেন, মাখন লাল সরকারের মতো একজন প্রবীণ কর্মীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বাড়িয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের শুরুর দিক থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, কংগ্রেস শাসনামলে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ মাখন লাল সরকারকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে আদালতে হাজির করে তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাখন লাল সরকার বিচারককে বলেছিলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি; শুধু একটি দেশাত্মবোধক গান গেয়েছেন। পরে বিচারক সেই গান শুনতে চাইলে আদালতকক্ষেই তিনি গানটি পরিবেশন করেন। গান শোনার পর বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন, তাকে সম্মানের সঙ্গে প্রথম শ্রেণির টিকিটে বাড়ি পাঠাতে এবং যাত্রার জন্য অর্থ সহায়তা দিতে।
আরও পড়ুন: আবারও পিছিয়ে গেল থালাপতি বিজয়ের শপথ
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক জীবনে মাখন লাল সরকার শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার প্রথম বিজেপি জেলা সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে ভারতীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন আন্দোলনের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে থাকার কারণে তাকেও গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল।
১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রায় ১০ হাজার সদস্য সংগ্রহে সহায়তা করে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করেন।
১৯৮১ সাল থেকে টানা সাত বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মাখন লাল সরকার। সে সময় সাধারণত কোনো নেতা দুই বছরের বেশি একই সাংগঠনিক পদে দায়িত্বে থাকতেন না। সেই বিবেচনায় তার দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে থাকা ছিল বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।








