Logo

সিরিয়ায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে বাড়ছে আতঙ্ক, উদ্বেগে দামেস্কবাসী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৯:১৪
সিরিয়ায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে বাড়ছে আতঙ্ক, উদ্বেগে দামেস্কবাসী
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফর চলাকালেও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুলাই দামেস্কের জাস্টিস প্যালেসের কাছে একটি ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হন। পরে ৭ জুলাই ফোর সিজনস হোটেলের কাছে পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় সরকারি সফরে সিরিয়ায় অবস্থান করছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ওই হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জেরই প্রতিফলন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে তারা সহিংসতার সঙ্গে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবুও সাম্প্রতিক হামলাগুলো দামেস্কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আবারও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

আরব সেন্টার ফর কনটেম্পোরারি সিরিয়ান স্টাডিজের নিরাপত্তা ও সামরিকবিষয়ক গবেষক নাভভার সাবান বলেন, সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত অনেকেই মনে করছিলেন দামেস্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। কিন্তু নতুন বিস্ফোরণগুলো সেই ধারণায় ধাক্কা দিয়েছে।

সিরিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবারের হামলার সঙ্গে জড়িত আইএসআইএল (আইএসআইএস)-সংশ্লিষ্ট একটি সেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দুই দিন আগে রাজধানীতে সংঘটিত বোমা হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।

নাভভার সাবানের মতে, সংবেদনশীল সময়ে প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে রাজধানীর মানুষের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট করাই হামলাকারীদের উদ্দেশ্য হতে পারে। এটি বড় ধরনের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের চেয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার কৌশল।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়া নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, বিদ্যুতের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতা এখনও দেশটির বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র সিরিয়া বিশ্লেষক নানার হাওয়াচ বলেন, এসব হামলা রাজধানীর অগ্রগতিকে পুরোপুরি নস্যাৎ না করলেও এটি স্পষ্ট করে যে পরিস্থিতি এখনও নাজুক। বাহ্যিকভাবে স্থিতিশীল মনে হলেও গোপন সশস্ত্র নেটওয়ার্কের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ‘দ্য সিরিয়া ক্যাম্পেইন’-এর নির্বাহী পরিচালক রাজান রশিদি বলেন, আদালত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, এসব স্থানে প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে মানুষের যাতায়াত থাকে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে অনেক সিরীয় এমন সহিংসতার সঙ্গে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবুও জীবিকার প্রয়োজনে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD