ইরানের পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত অন্তত ১৪

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠানের শেষ দুই দিনে দেশটির পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বিজ্ঞাপন
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্য বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপৌর বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হতাহতের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আহত ৭৮ জনের মধ্যে ৪৭ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজন ওই প্রদেশের বাসিন্দা।
ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর ধারাবাহিকতায় ৭ ও ৮ জুলাই ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর এবং সামরিক লজিস্টিক কেন্দ্র।
মার্কিন হামলার জবাবে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় আইআরজিসি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি








