ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের একটি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলার সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই ছিল এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ জুলাই) রাতেও ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা অবস্থায় ৭ ও ৮ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় তেহরানের সঙ্গে সংযুক্ত রেলপথের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তেহরানগামী প্রধান রেল করিডরের একটি অংশেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুশেহরে অবস্থিত ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং স্থায়ী শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় নতুন এই সামরিক অভিযান।
হামলার পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বোমাবর্ষণের ভিডিও প্রকাশ করে লেখেন, এটি জাহাজে ইরানের হামলার প্রতিশোধ। একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, এ অভিযান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে না।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে ঘিরে সতর্কতা জারি করা হয় এবং সেখানে অন্তত তিনবার সাইরেন বাজানো হয়। এছাড়া কুয়েত ও কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানি বাহিনী।
এদিকে জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আল-জাজিরা








