ইসলামাবাদ চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার দায় যুক্তরাষ্ট্রের: ইরানের স্পিকার

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি কার্যকর না হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার জন্য ওয়াশিংটনের সমালোচনা করেন।
বিজ্ঞাপন
ঘালিবাফ লিখেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা, দক্ষিণ ইরানে হামলা চালানো এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের কারণে চুক্তিটি কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের যুগ শেষ হয়েছে এবং ইরান কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে। তার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা অর্থহীন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান ঘালিবাফ।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ১৪ দফার ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করে। চুক্তিটি ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকার কথা ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।
বিজ্ঞাপন
সেন্টকম জানায়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।








