Logo

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনায় ফের বাড়লো তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৭:০০
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনায় ফের বাড়লো তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৫৭ ডলার বা ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ২৩ ডলার বা ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৬৭ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ মূল্য।

এর আগে ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির অনুমোদনসংক্রান্ত সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করার পর মঙ্গলবারও উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বুধবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের জন্য হওয়া সমঝোতা এখন অতীত। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার আগ্রহও নেই বলে মন্তব্য করেন।

গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল ৬০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন হামলা বা ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের আরও অবনতি হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ আবারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বাজার বর্তমানে সেই ঝুঁকির দিকেই নজর রাখছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করে।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির প্রধান বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অন্তত চারটি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পরিকল্পনা বাতিল করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে নরডিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসইবির প্রধান পণ্য বিশ্লেষক বিয়ার্নে শিলড্রপের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭০ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে থাকা বাস্তবসম্মত।

বিজ্ঞাপন

এদিকে একাধিক বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসের বাকি সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে চীন। পাশাপাশি চার মাস বন্ধ থাকার পর একটি বেসরকারি তেল শোধনাগারকে আবারও জ্বালানি রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD