Logo

নগদ অর্থের বিকল্প নয় ডিজিটাল ইউরো: ইসিবি প্রেসিডেন্ট

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৩৭
নগদ অর্থের বিকল্প নয় ডিজিটাল ইউরো: ইসিবি প্রেসিডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ডিজিটাল ইউরো কোনোভাবেই প্রচলিত নগদ অর্থের বিকল্প হিসেবে চালু করা হচ্ছে না। বরং এটি হবে অর্থপ্রদানের একটি অতিরিক্ত ডিজিটাল মাধ্যম, যা নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে তিনি এ দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, ডিজিটাল ইউরো চালুর মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ডিজিটাল ইউরো সংক্রান্ত বিল নিয়ে নিজেদের আলোচনার অবস্থান অনুমোদন করার পর এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ক্রিস্টিন লাগার্ড। তার মতে, এই অনুমোদন ডিজিটাল ইউরো বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ আরও সহজ করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আলোচনা সম্পন্ন করে ডিজিটাল ইউরোর আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে নতুন ডিজিটাল মুদ্রা চালুর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লাগার্ড বলেন, বিশ্বজুড়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা মুদ্রাকেও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য থেকেই ডিজিটাল ইউরো প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। এটি মানুষের হাতে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক অর্থপ্রদানের একটি বিকল্প মাধ্যম তুলে দেবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, বর্তমান ব্যাংকনোট ও ধাতব মুদ্রার মতো ডিজিটাল ইউরোও আইনগতভাবে বৈধ অর্থপ্রদানের মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হবে। বরং নাগরিকরা আগের মতোই নগদ লেনদেনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন এবং ডিজিটাল ইউরো কেবল সেই ব্যবস্থার একটি পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

ইসিবি প্রধান জানান, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের শেষ দিকে ইউরো ব্যাংকনোটের জন্য একটি নতুন নকশা ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনাও ঘোষণা করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের যুগেও নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং মানুষের নতুন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগদ অর্থের ব্যবস্থাকেও আরও আধুনিক করা হবে।

ডিজিটাল ইউরো নিয়ে ইউরোপীয় রাজনীতিতেও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য শুরু থেকেই এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা চালু হলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মানুষের আর্থিক লেনদেন সহজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং ধীরে ধীরে নগদ অর্থের ব্যবহার কমে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে এসব উদ্বেগের জবাবে লাগার্ড বলেন, ইসিবির উদ্দেশ্য কখনোই নাগরিকদের ব্যক্তিগত লেনদেন নজরদারি করা নয়। বরং লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা ব্যবহারকারীদের আস্থা বজায় রেখে আধুনিক আর্থিক সেবা নিশ্চিত করবে।

তার মতে, ডিজিটাল ইউরো প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো ইউরোপের আর্থিক স্বাধীনতা ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। বর্তমানে ইউরোপে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবং আংশিকভাবে চীনা প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা ইউরোপের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে বিদেশি প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমবে, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং ইউরোপের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।

বিজ্ঞাপন

লাগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে ডিজিটাল ইউরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক অবকাঠামোকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও স্বনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও ইউরোপে নগদ অর্থের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষের অর্থপ্রদানের স্বাধীনতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD