নিজের জন্মস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারসংলগ্ন এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
বিজ্ঞাপন
মাশহাদেই ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন খামেনি। মৃত্যুর পর একই শহরে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো।
দাফন অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তার মেজো ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন প্রায় ৩৭ বছর দায়িত্ব পালন করা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনিও।
বিজ্ঞাপন
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলী খামেনি। এর আগে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনবহুল সড়ক অতিক্রম করে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরিহিত আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরিহিত বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
দাফনের মধ্য দিয়ে ইরানে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। শোক অনুষ্ঠানে খামেনির চার ছেলের মধ্যে তিনজন—মোস্তফা, মাসুদ ও মেইসাম খামেনি উপস্থিত ছিলেন। শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মোজতবা খামেনি তার বাবার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও জানানো হয়েছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর একই বছর তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর সেই পদে বহাল ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স








