Logo

আবারও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ মে, ২০২৬, ২০:৩৪
আবারও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।

সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ২ দশমিক ৮৫ ডলার বেড়ে ১০৭ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ১৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০১ দশমিক ২০ ডলারে। এর আগের দিনও উভয় সূচকে প্রায় ৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া নৌ-অবরোধ, ক্ষতিপূরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানগত পার্থক্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জোরালো করায় এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন পরিস্থিতিও চাপে পড়েছে।

এদিকে চীন ও ইরানের তেল বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক নিয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠকের ফলাফলও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন তৈরি হলে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD