Logo

অর্ধশতাধিক ‘যৌন নিপীড়ন’, আবাসিক বালিকা মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মে, ২০২৬, ২১:৪৭
অর্ধশতাধিক ‘যৌন নিপীড়ন’, আবাসিক বালিকা মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা
প্রতীকী ছবি

ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভায় অবস্থিত একটি বালিকা ইসলামিক আবাসিক স্কুলে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় স্কুলটির তত্ত্বাবধায়ক কিয়াই আশারি-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য জাভার এনধোলো কুসুমো নামের ওই বালিকা আবাসিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ এপ্রিল পুলিশ অভিযুক্তকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে তিনি রাজধানী জাকার্তাসহ কয়েকটি এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশ জানায়, কয়েকদিন পালিয়ে থাকার পর গত ৬ মে রাতে মধ্য জাভার ওনোগিরি এলাকার একটি মসজিদ থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে ২ মে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা স্কুলটি ঘেরাও করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় পুলিশ প্রধান জাকা ওয়াহিউদি জানান, ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত এক শিক্ষার্থীকে ১০ দফা নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি শরীরে ম্যাসাজ করানোর কথা বলে ছাত্রীদের কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করতেন।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে আইনজীবীরা দাবি করেছেন, নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ জনের মধ্যে হতে পারে। তাদের বেশিরভাগই এতিম অথবা নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তান বলে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক নিজেকে ‘নবীর বংশধর’ এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বলে দাবি করতেন। ধর্মীয় ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রীদের নীরব থাকতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝাতেন, তার নির্দেশ অমান্য করলে তাদের কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন বাতিল করেছে। বর্তমানে সেখানে অধ্যয়নরত ২৫২ জন শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ভর্তি কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নারী ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, কিছু আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানিকে দীর্ঘদিন ধরে আড়াল করার প্রবণতা রয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, জবাবদিহি এবং নৈতিকভাবে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD