এবার পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া শুরু করলো বেলারুশ

রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী মিত্র দেশ বেলারুশ নিজেদের ভূখণ্ডে এসব অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা যাচাইয়ে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই মহড়ায় রাশিয়ার সহায়তায় পারমাণবিক গোলাবারুদ পরিবহন, সংরক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করার বিভিন্ন ধাপের অনুশীলন করা হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি, সমন্বয় ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কার্যকারিতা ও প্রস্তুতির মাত্রা যাচাই করাই এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া সেনাদের অবস্থান গোপন রাখা, দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে দ্রুত মোতায়েন এবং সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের নিখুঁত কৌশল অনুশীলনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বেলারুশের সীমান্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাশাপাশি ন্যাটোভুক্ত তিনটি দেশের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এক বছর পর ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বেলারুশে মোতায়েন করতে রাজি হন। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এই অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে মস্কোর হাতেই।
পুরো সংঘাতজুড়ে পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলো একে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সহায়তা করার বিরুদ্ধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে।
বিজ্ঞাপন
গত সপ্তাহে পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ তাদের নতুন ‘সারমাত’ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে এবং মস্কো তাদের পারমাণবিক বাহিনীকে আধুনিক করার কাজ অব্যাহত রাখবে।
তবে বেলারুশ সরকার দাবি করেছে, চলমান এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মহড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে না।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স।








