Logo

গরু কোরবানি দেওয়া ঈদ বা ইসলামের অংশ না: কলকাতা হাইকোর্ট

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ মে, ২০২৬, ১৮:০৪
গরু কোরবানি দেওয়া ঈদ বা ইসলামের অংশ না: কলকাতা হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার গত ১৩ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, উন্মুক্ত জনপরিসরে কোনো প্রাণী জবাই করা ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি দেওয়া ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান নয় এবং এটি ঈদের অপরিহার্য অংশও নয় বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে উন্মুক্ত জনপরিসরে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞাও বহাল রেখেছেন আদালত।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশনায় স্থগিতাদেশ চেয়ে করা আবেদন বৃহস্পতিবার (২০ মে) খারিজ করে দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত কলকাতা হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রায়ে উন্মুক্ত বা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে গরু ও মহিষসহ বিভিন্ন প্রাণী জবাইয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়।

রায়ের আদেশে বলা হয়, ‘কোনো উন্মুক্ত পরিসরে গরু ও মহিষসহ অন্যান্য প্রাণী জবাই করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মো. হানিফ কোরেশি ও অন্যান্য বনাম বিহার রাজ্য মামলায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে গরু কোরবানি দেওয়া ঈদুল আজহা উৎসবের অংশ নয় এবং ইসলামের অধীনে এটি কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় বিধানও নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পশু জবাই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রসহ বেশ কয়েকজন ওই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পিটিশনকারীরা আসন্ন ঈদুল আজহায় ধর্মীয় আচার পালনের জন্য 'প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০'-এর ১২ ধারার অধীনে ছাড় চেয়েছিলেন। 

তবে আদালত রায়ে বলেন, 'কয়েকজন পিটিশনকারীর চাওয়া এই ছাড়ের বিষয়ে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ ধারার আওতায় রাজ্য সরকারকে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।'

বিজ্ঞাপন

গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, সেখানে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ বা স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো প্রাণী জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, উন্মুক্ত জনপরিসরে কোনো ধরনের প্রাণী জবাই করা ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’ থাকবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD