যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ৩০ দিন পর হরমুজ খুলে দেবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইরান। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কি এশিয়া।
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পর হরমুজ প্রণালিতে পাতা জলমাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু করবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল আবারও স্বাভাবিক ও নিরাপদ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্তিচুক্তির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বর্ধিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের এক পঞ্চমাংশ ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। অবরোধকে শক্তিশালী করতে প্রণালির বিভিন্ন অংশে জলমাইন পাতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগণের ধারণা, হরমুজের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১ ডজনেরও বেশি মাইন পেতেছে আইআরজিসি।
হরমুজ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে অনেক দেশে বাড়তে শুরু করে জ্বালানি তেল, তরল গ্যাস প্রভৃতির দাম।
বিজ্ঞাপন
টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করায় ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীও উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট অবস্থানের তথ্য গোপন থাকায় সেই অভিযান সফল হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : রয়টার্স








