হাসপাতালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় তাকে দেশটির রাজধানী তেল আবিবের হাদাসা আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
হিব্রু গণমাধ্যমে তার হাসপাতালে নেওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, মূলত দাঁতের চিকিৎসার জন্যই নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
৭৬ বছর বয়সী এই নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একাধিক ঘটনার কারণে তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। ফলে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত মাসে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি হাদাসা মেডিকেল সেন্টারে প্রোস্টেটের ক্যানসারজনিত টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিষয়টি যেন প্রচারণার হাতিয়ার না হয়, সে কারণেই শুরুতে এটি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে তিনি কবে রোগ শনাক্ত হয়েছে, কখন চিকিৎসা শুরু বা শেষ হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নেতানিয়াহুর ঘোষণার সঙ্গে তার বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কিত একটি অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনে অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে মাত্র পাঁচটি অস্পষ্ট বিষয় ছিল এবং এটি কোন বছরের প্রতিবেদন সেটিও উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া কোনো নথিতেই হাসপাতালের লোগো বা আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বিবৃতির ইঙ্গিত ছিল না।
বিজ্ঞাপন
নেতানিয়াহুর শরীরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে একটি পেসমেকার বসানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়।
নেতানিয়াহুর পেসমেকার বসানোর সময় প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল, তিনি পানিশূন্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারে এক রাত অবস্থান করেছিলেন বলে জানিয়েছিল তার কার্যালয় ও হাসপাতাল। যখন হাসপাতাল জানায়, বাস্তবে তার শরীরে একটি সাবকিউটেনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকরা একসপ্তাহ পরে স্বীকার করেন তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় করা একটি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষায় তারা কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিলেন। তবুও তারা জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হৃদযন্ত্র ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’ ছিল।








