Logo

বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মে, ২০২৬, ১৮:১২
বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ কমেনি। বরং নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, জনগণের রায় তাদের পক্ষেই ছিল, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে ফল বদলে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ভোটে মানুষ তৃণমূলকেই সমর্থন দিলেও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ কৌশলের মাধ্যমে তাদের হারানো হয়েছে। তার ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে তাকে কোণঠাসা করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

রবিবার ফলতা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। নিজের পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুরের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কীভাবে জয় হয়েছে, তা আদালতেই প্রমাণ হবে। ইভিএমের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং রিপোর্ট প্রকাশের দাবিও তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, গণনার সময় বহু জায়গায় অনিয়ম হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৫০টির বেশি আসনে নির্বাচনী আবেদন দায়েরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোট গণনা, ইভিএমের তথ্য, সিল করা নথির নম্বরসহ বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ আদালতে তুলে ধরতে চাইছে দল। এই পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা থেকে আসা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে মামলার খসড়া তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। তবে আদালতের লড়াইয়ে নামতে গিয়ে অস্বস্তিতেও পড়েছে তৃণমূল। কারণ দলের অনেক পরাজিত প্রার্থীই আইনি লড়াইয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থীদের রাজি করানো যাচ্ছে না। ফলে মামলার কৌশল তৈরিতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতা ও সংগঠনের সুবিধা ভোগ করার পর এখন অনেকেই সরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকে নির্বাচনি আবেদন করার কথা বলা হলেও তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের তরুণ নেতৃত্বের একাংশ আবার এই আইনি লড়াইকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের লড়াই হিসেবেই দেখছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে ও পরাজিত প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিতভাবে দলের আইনি প্রস্তুতিতে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বৈঠক, জেলা রিপোর্ট সংগ্রহ এবং মামলার নথি তৈরির কাজেও তিনি অংশ নিচ্ছেন। তৃণমূলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইভিএম ও ভোট গণনা।

বিজ্ঞাপন

দলের দাবি, বহু কেন্দ্রে সিল করা নথির নম্বরের সঙ্গে গণনার তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। ভোটযন্ত্রের চার্জ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, মানুষের রায়কে অন্যভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে হারলেও তৃণমূল এখনই রাজনৈতিকভাবে পিছু হটার অবস্থানে নেই। আদালত এবং জনমত—দুই দিকেই লড়াই চালিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে দলটি। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ভবিষ্যতের আন্দোলনের ভিত গড়ে তোলার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র অভিযোগ তুললেই হবে না, আদালতে শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করাই হবে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নির্বাচনি আবেদন দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া। এর মধ্যে পরাজিত প্রার্থীদের অনীহা দলটির জন্য আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তারপরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই পরাজয়কে শেষ হিসেবে দেখতে নারাজ। আদালত, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং জনমতের মাধ্যমে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD