Logo

‘গরু আমাদের মা, গোমাতা আমাদের রাষ্ট্রমাতা’

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ জুন, ২০২৬, ১৬:১৭
‘গরু আমাদের মা, গোমাতা আমাদের রাষ্ট্রমাতা’
ছবি: সংগৃহীত

গরু ইস্যুতে আবারও মুসলিমদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) যোগী আদিত্যনাথ। ম্প্রতি সরকারি এক অনুষ্ঠানে বিজেপির এই নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে ‘গরু মা হিসেবে’ পূজনীয়। ‘গোমাতার’ প্রতি যাতে কোনো অসম্মান করা না হয়, সে বিষয়ে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের উচিত তাদের অনুসারীদের সতর্ক করা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২ জুন) প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ডেকান হেরাল্ডসহ বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন দেশটির বেশ কিছু মুসলিম নেতা। জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি ও আরও কিছু মুসলিম সংগঠন গরুকে ‘ভারতের জাতীয় পশু’ ঘোষণার এ দাবি তুলেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, মায়ের মর্যাদা রক্ষা করার শিক্ষা কোনো সন্তানের আলাদাভাবে প্রয়োজন হয় না। ভারতের মানুষ নিজের মা এবং গরুকে সমান সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখেন। যারা গরুকে কেবল একটি পশু হিসেবে বিবেচনা করেন, তারা পরোক্ষভাবে গো-হত্যাকে সমর্থন করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গরু আমাদের মা। সে নিছক কোনো পশু নয়। গোমাতাকে ‘পশু’ আখ্যা দিলে বুঝতে হবে আপনাদের মানসিকতাই পাশবিক। গোমাতা আমাদের রাষ্ট্রমাতা। এর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই।

এসময় আদিত্যনাথ আরও বলেন, ‘আজকাল অনেকে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি তুলছেন। কিন্তু আমরা বলি, গরু আমাদের মাতা। তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জন্মান্তরের।’

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত ১ হাজার ৬৪৫টি পরিবার, প্রাক্তন সৈনিক এবং ইজারাদারদের মধ্যে জমির মালিকানার সনদ বিতরণ করেন।

পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশভাগের সময় ধর্মীয় চরমপন্থার কারণে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং এর ফলে নিরীহ হিন্দু ও শিখদের গণহত্যা সংঘটিত হয়। অবশেষে, কয়েক দশক পর সেই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর চতুর্থ প্রজন্ম জমির মালিকানার অধিকার পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিতরণ করা এসব মালিকানা সনদের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। তারা সবাই ১ হাজার ৬৪৫টি বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্য।

সরকার আরও জানিয়েছে, যেসব বাস্তুচ্যুত পরিবার এখনও জমির মালিকানা সনদ পায়নি, তাদের জন্যও একই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি পরিবারগুলোকেও জমির স্বত্ব প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD