যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও লেবাননে হামলা করেছে ইসরায়েল

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরায়েল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দিলেও তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার অন্তত একটিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ দফার আলোচনার পর বুধবার ওয়াশিংটনে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয়েছে। তবে এ জন্য ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও কিছু ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
তবে এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ দাবি করে, তারা দক্ষিণ লেবাননের কানতারা এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহন লক্ষ্য করে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গের কাছে থাকা সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধারাবাহিক হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে।
লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে, যার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কোমাতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের সংগঠন কোনো ধরনের ‘আংশিক যুদ্ধবিরতি’ মেনে নেবে না।








