Logo

নিউজিল্যান্ডের ৪ এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুন, ২০২৬, ২০:০৯
নিউজিল্যান্ডের ৪ এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের চার সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এক বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এটি নিউজিল্যান্ডের কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের প্রথম এমন পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে তাইওয়ান সফর শেষে দেশে ফেরার পর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতে পারেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা। তবে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর থেকে তাইওয়ান পৃথক প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও বেইজিং এখনো দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের কার্যক্রম সীমিত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন।

বিজ্ঞাপন

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ান সফরের কারণে দেশটির আইনপ্রণেতাদের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা এবারই প্রথম। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরেই নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যরা তাইওয়ান সফর করে আসছেন এবং এসব সফর দেশের ‘এক চীন নীতি’র সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, বেইজিংয়ের উদ্বেগ উপেক্ষা করে সফর করায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, ওই সফর তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী শক্তিগুলোর কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং এটি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে ক্ষমতাসীন জোটের এমপি মরিন পু, ডেভিড উইলসন ও লরা ম্যাকক্লুর এবং বিরোধী লেবার পার্টির ডানকান ওয়েব তাইওয়ান সফর করেন।

লরা ম্যাকক্লুর জানান, তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং এ জন্য কোনো ক্ষমা চাইবেন না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই একই ধরনের সফর হয়ে আসছে। একজন গণতান্ত্রিক দেশের সংসদ সদস্য হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের অধিকার তার রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনাকে অতীতের কূটনৈতিক রীতিনীতি থেকে বিচ্যুতি হিসেবে উল্লেখ করে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য বেইজিং ও ওয়েলিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে নিউজিল্যান্ড ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে আসছে। দেশটির আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বেইজিংয়ের সঙ্গে থাকলেও তাইওয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD