ইরানে আবারও মার্কিন হামলা, আইআরজিসির পাল্টা জবাব

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কেশম দ্বীপ এবং উপকূলীয় গোরুক এলাকায় অবস্থিত একাধিক রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার পরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত ফল দেয়নি। যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় কূটনৈতিক আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) দুই দেশের মধ্যে এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের চারটি ড্রোন তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে, যেগুলো হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া হয়েছিল। এরপরই গোরুক ও কেশম আইল্যান্ডে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
সেন্ট্রাল কমান্ড আরও দাবি করেছে, ইরানের ছোড়া ওই ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল। মূলত পরবর্তী সময়ে যেকোনো বড় হামলা ঠেকাতেই এই রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান।
ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘শত্রুপক্ষের ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সিরিক শহর এবং হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির আশপাশে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে ওঠে।
এর আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছিল, তারা ওমান উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হয়রানি করছিল। তবে ইরানের এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। মার্কিন পক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে তাদের কার্যক্রম নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ এবং ইরানের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।








