Logo

হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করে ভাঙা হচ্ছে ৪৪ বছরের পুরোনো মসজিদ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ জুন, ২০২৬, ১৮:৪৬
হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করে ভাঙা হচ্ছে ৪৪ বছরের পুরোনো মসজিদ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে তীব্র উত্তেজনা ও ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের মধ্যে ৪৪ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত রবিবার (৭ জুন) জয়পুরের মালব্য নগর এলাকায় অবস্থিত ‘নূরানি মসজিদ’ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পুরো এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়, মোতায়েন করা হয় প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য। একই সঙ্গে গুজব ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে নির্মিত এই নূরানি মসজিদটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রতিদিন এখানে শত শত মুসল্লি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। তবে হঠাৎ করেই রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অজুহাতে জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (জয়ডিএ) মসজিদটিকে ‘অবৈধ স্থাপনা’ হিসেবে ঘোষণা করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। মসজিদের পাশাপাশি একটি মাজার, দুটি ছোট মন্দির এবং একটি সৎসঙ্গ ভবনও এই উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রশাসনের এমন আকস্মিক ও একতরফা অ্যাকশনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মসজিদ কমিটি। কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার রাতে তাদের হাতে উচ্ছেদের নোটিশ ধরানো হয় এবং এর জবাব দেওয়ার জন্য ন্যূনতম সময়ও দেওয়া হয়নি। আইনি লড়াই বা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে রবিবার সকালে বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় প্রশাসন।

কমিটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই জমিটি কোনো অবৈধ সম্পত্তি নয়, বরং জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (জেডিএ) অনুমোদিত একটি আবাসন সমিতি (হাউজিং সোসাইটি) থেকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে কেনা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর হঠাৎ কোন উদ্দেশ্যে এটিকে অবৈধ তকমা দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মুসলিমরা।

বিজ্ঞাপন

অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুরো মালবীয় নগর অবরুদ্ধ করে ফেলে পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ হাজারেরও বেশি সশস্ত্র পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়। অভিযানের আগে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করতে পুলিশের পক্ষ থেকে 'ফ্ল্যাগ মার্চ' বা মহড়া দেওয়া হয়। একই সাথে ডিজিটাল মাধ্যমে যেন কোনো ক্ষোভ বা প্রতিবাদের ছবি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে রাস্তা প্রশস্তকরণ জরুরি ছিল। এর আগে গত মে মাসে ওই এলাকায় ১৩৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। নূরানি মসজিদের পরিবর্তে খো নাগোরিয়ান এলাকায় বিকল্প জমি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মতে, একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় উপাসনালয় এভাবে জোরপূর্বক ভেঙে ফেলা ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে এবং পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD