Logo

বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রহীন নয়

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ জুন, ২০২৬, ১৯:৪৩
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রহীন নয়
ছবি: সংগৃহীত

পারস্পরিক সম্মতিতে অবিবাহিত দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ককে কোনোভাবেই কারও চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরির ভিত্তি হিসেবে দেখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তেলেঙ্গানার এক প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

২০১৪ সালের এক ফৌজদারি মামলার জেরে তেলেঙ্গানা রাজ্য পুলিশ নিয়োগ বোর্ড ওই প্রার্থীর ‘স্টাইপেনডারি ক্যাডেট ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল’ পদে নিয়োগ সাময়িকভাবে বাতিল করেছিল। মামলাটি ছিল এক নারীর সঙ্গে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অভিযোগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়কে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে লোক আদালতে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। প্রার্থী নিয়োগ আবেদনপত্রেও এই মামলার তথ্য উল্লেখ করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শুনানিতে আদালত বলেন, পারস্পরিক সম্মতিতে দুই অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে সম্পর্ক থাকলে সেটিকে তাদের চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার ভিত্তি করা উচিত নয়। এমন সম্পর্ক নিয়ে আইনগতভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।

বেঞ্চ আরও উল্লেখ করে, সব সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায় না। তাই কোনো সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত না গড়ালেই এক পক্ষকে প্রতারক হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আদালতের মতে, সামাজিক বাস্তবতা বদলাচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে সে পরিবর্তনের সঙ্গে সংবেদনশীল হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রায়ে বলা হয়, লোক আদালতে নিষ্পত্তি মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করেছেন—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ফৌজদারি মামলা আপসের মাধ্যমে শেষ হলে, সেটিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক সিদ্ধান্তের ভিত্তি করা যাবে না; যদি না জোরপূর্বক আপস করানো হয়েছে—এমন প্রমাণ থাকে।

প্রথমে ওই প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল এই যুক্তিতে যে, মামলাটি নৈতিক স্খলনের ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একক বিচারক সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। তবে নিয়োগ বোর্ড পুনরায় নিয়োগ বাতিল করলে আবারও আদালত প্রার্থীর পক্ষে রায় দেয়। পরে ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় বাতিল করলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।

সুপ্রিম কোর্ট আরও মন্তব্য করে, বর্তমানে এ ধরনের পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ক স্বাভাবিক সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন সম্পর্ক থাকলে সেখানে সম্মতি ছিল—এমন ধারণাই যুক্তিসংগত।

বিজ্ঞাপন

আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও অভিযোগকারী প্রতিবেশী ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরকে চিনতেন। নথিপত্রে জোরপূর্বক আপস করানো হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে আরও জানায়, অভিযোগটি মূলত প্রতারণার দাবি সংক্রান্ত হলেও তা প্রমাণের জন্য নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগকারী নিজেও মামলা চালিয়ে যেতে রাজি হননি এবং আপসে সম্মতি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রায়ে বলা হয়, যেহেতু অভিযোগটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, তাই নিয়োগ বোর্ডের কাছে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে নৈতিক অনুপযুক্ততার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি ছিল না।

শেষে সুপ্রিম কোর্ট নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রার্থীর নিয়োগ বহাল রাখার নির্দেশ দেয় এবং একই সঙ্গে নিষ্পত্তি হওয়া ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মূল্যায়নে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের জন্য নীতিগত নির্দেশনাও নির্ধারণ করে দেয়।

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD