Logo

ভারতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ জুন, ২০২৬, ১৪:৫৭
ভারতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে। তবে বৈঠক শেষে নির্ধারিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়নি, যা দুই বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটল।

বিজ্ঞাপন

চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানরা পুশইন (অনুপ্রবেশ) ইস্যুতে নিজ নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ, এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসে।

গত সোমবার বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে পৌঁছে বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন। পরদিন মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সম্মেলন শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষর করা হলেও প্রচলিত নিয়ম ভেঙে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেননি। বরং আলোচনার সারসংক্ষেপ নিয়ে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হবে বলে জানায় পিটিআই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ এবং ভারতে নতুন সরকার গঠনের পর এটি ছিল বিজিবি–বিএসএফ শীর্ষ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক। এর আগে গত রোববার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, বৈঠকে পুশইন এবং সীমান্তে গুলির ঘটনা বাংলাদেশ পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সীমান্ত সম্মেলন প্রতিবছর একবার অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে তা বছরে দুইবার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে উভয় দেশ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। সর্বশেষ বৈঠকটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়, তখন বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল।

ভারত–বাংলাদেশের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিলোমিটার) পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। এর মধ্যে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকায় এখনো বেড়া নেই, যার ১৭৪.৫১ কিলোমিটার অংশে বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কারের মাধ্যমে ‘থ্রি-ডি’ (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD