ইরান চুক্তির পর কমছে তেলের দাম, তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। একাধিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম হ্রাস পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে এই তেল প্রতি ব্যারেল ৮৪ ডলারের আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে।
একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমেছে। এই ব্র্যান্ডের তেল প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ দরপতনের পর বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮১ ডলারের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবসানের একটি চুক্তি হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাসের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় দরপতন, যা তেলের দামকে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, গত ৪ মার্চের পর প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তারা বলছেন, এই পতন সামগ্রিকভাবে বাজারের জন্য ইতিবাচক হলেও পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।
বিজ্ঞাপন
র্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকনেলি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যুদ্ধ শুরুর সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলারের কাছাকাছি, এরপর সংঘাতের কারণে তা বেড়ে এক পর্যায়ে ১০০ ডলারেরও ওপরে উঠেছিল। বর্তমান দরপতন স্বস্তিদায়ক হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় প্রয়োজন।
তার মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক তেলবাজারে পূর্ণ স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তেলের দামে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সূত্র: সিএনএন।








