ইরানের চাবাহার বন্দরের নজরদারি টাওয়ার গুঁড়িয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির চাবাহার বন্দরের একটি সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাকরান উপকূলীয় অঞ্চলের চাবাহার বন্দরের সামুদ্রিক ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তেহরান এ ঘটনাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জেলেদের জীবিকা এবং বেসামরিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং এতে সম্পূর্ণ বেসামরিক এই স্থাপনাটি ধ্বংস হয়।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও নিজেদের ঘোষিত অবস্থানের প্রতি দ্বৈত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে হামলার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়। দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, দক্ষিণাঞ্চল বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব মোকাবিলা করছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন বা অন্য কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন লাগলেও দমকল বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো মেরামত এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কারিগরি দল কাজ করছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ অপচয় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ইরান দাবি করে, কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে তারা হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমারস) প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। তেহরানের দাবি, এসব স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েল-সমর্থিত যোদ্ধারা অবস্থান করছিল।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আল জাজিরা








