কানাডায় ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় ঢাকলো যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ

কানাডাজুড়ে ভয়াবহ দাবানলের কারণে সৃষ্টি হওয়া ঘন ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) ৬০০-তে পৌঁছায়, যা মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার নির্ধারিত ‘বিপজ্জনক’ সীমার প্রায় দ্বিগুণ।
মার্কিন সরকারি তথ্য বলছে, মিনেসোটা, মিশিগান, উত্তর ইলিনয়, উত্তর ওহাইও এবং কানাডার অন্টারিও অঞ্চলে ধোঁয়ার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। মিনিয়াপোলিস, মিলওয়াকি ও টরন্টোর মতো বড় শহরেও বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মিনেসোটা থেকে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বায়ুদূষণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শিকাগোর বাসিন্দা স্টেফানি ভিলানোভা জানান, বাইরে তাকালে কুয়াশা মনে হলেও পুরো শহর আসলে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। বাইরে বের হলেই চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভূত হচ্ছে। এ কারণে তিনি ও তার বাবা মাস্ক ব্যবহার করে বাইরে বের হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
দূষিত বাতাসের কারণে মিনেসোটায় বেশ কয়েকটি কনসার্ট, মেলা ও অন্যান্য উন্মুক্ত অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে পৌর সুইমিং পুল, প্রকৃতি ক্যাম্প, গলফ কোর্স এবং বিভিন্ন আউটডোর কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানী এমিলি ফিশার বলেন, ধোঁয়ার বিশাল একটি প্রবাহ বর্তমানে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তার মতে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সুস্পষ্ট প্রভাব, যা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কের আকাশও কমলা রঙের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং হৃদ্রোগ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি, পুলিশ স্টেশন ও ফায়ার স্টেশনে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কানাডা সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বর্তমানে ৮৫৮টি দাবানল জ্বলছে। এর মধ্যে ১১১টি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যানিটোবা, সাসকাচেওয়ান ও অন্টারিও প্রদেশ।
বিজ্ঞাপন
চলতি মৌসুমে কানাডায় প্রায় ৫৯ লাখ একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। এসব দাবানলের ধোঁয়া দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর কারণে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, গর্ভাবস্থার জটিলতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
সূত্র: রয়টার্স








