Logo

হরমুজের পর এবার লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জুলাই, ২০২৬, ২০:৫৩
হরমুজের পর এবার লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো বা জাতীয় গ্রিডে হামলা চালায়, তাহলে লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধের প্রস্তুতি নিতে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উচ্চপর্যায়ের অন্তত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও অচল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ভয়াবহ সংকট তৈরি হতে পারে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং হুথিদের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি হুথিদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই এটি পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের হোদাইদাহ অঞ্চল থেকে এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু ইরানের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে গোষ্ঠীটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে লোহিত সাগরের রুটও অচল হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল পরিবহন পথই কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

হুথিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটির বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। এর ফলে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা সৌদি আরব-হুথি যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যায়।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক তরবজর্ন সলভড বলেন, এমন সংবেদনশীল সময়ে এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। তার মতে, সংঘর্ষ যদি লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচল ও রপ্তানি অবকাঠামোয় ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির অন্যতম বিকল্প পথও পুরোপুরি অচল হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের সাম্প্রতিক হুমকিকে সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, লোহিত সাগর ইস্যুতে হুথিরা এখন সরাসরি তেহরানের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হতো। জুনে দুই দেশের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD