দাবি আদায়ে অনড় সিজেপি, যন্তর মন্তরে সতর্ক পুলিশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আবারও অবস্থান নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দিনভর বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর যন্তর মন্তর এলাকা থেকে আন্দোলনকারীদের মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা আবারও সেখানে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। ভোর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে আসতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসায় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, সোমবারের মিছিল থেকে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ‘বেপরোয়া, আক্রমণাত্মক ও সহিংস’ আচরণ করেছে। তাদের একাধিকবার সতর্ক করা এবং আইনানুগ নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে কর্মসূচি চালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।
বিজ্ঞাপন
তবে পুলিশের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীরা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, পুলিশের পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এদিকে, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাঁর বাসভবনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন দাবি শোনার পাশাপাশি তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বৈঠকে সিজেপির পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সোনাম ওয়াংচুককে কোনো ধরনের চলাচল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই মুক্তি দেওয়া, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, মন্ত্রী তাদের দাবিগুলো যথাযথ পর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অনড় রয়েছেন।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের নতুন করে যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়ায় দিল্লিতে আবারও উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।








