জোরালো হচ্ছে নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পুলিশি অভিযানের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের চিহ্ন ছড়িয়ে রয়েছে। রক্তের দাগ, ভাঙা ব্যারিকেড, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জুতা-স্যান্ডেল, ভাঙা চশমা ও ছেঁড়া পোশাক সোমবারের সহিংস পরিস্থিতির সাক্ষ্য দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও কনট প্লেস এলাকায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী বিক্ষোভে অংশ নেন। একপর্যায়ে তারা সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে পিছু হটতে বাধ্য হন। সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৮ বছর বয়সী আন্দোলনকারী অংশুল দেব বলেন, দিল্লিতে এসে এমন পরিস্থিতি দেখবেন, তা কখনো ভাবেননি। তার অভিযোগ, নির্বাচিত সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করছে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার লক্ষ্যেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম ও মূল্যায়নে ত্রুটির অভিযোগে গত দুই মাস ধরে ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। বিভিন্ন ঘটনায় লাখো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত হতাশা থেকে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
এসব ঘটনার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার সঙ্গে কংগ্রেসের আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যও ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনকারীদের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকারের জবাবদিহির অভাব এবং আন্দোলন দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এসব ঘটনার ফলে তার পদত্যাগের দাবিও আরও জোরালো হচ্ছে।
ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেই দাবির স্লোগানও শোনা যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
লেখক ও মোদির জীবনীকার নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীর উপস্থিতি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা। তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মোদি অতীতেও বড় আন্দোলনের ক্ষেত্রে কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছেন। তার মতে, তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও সরকার নিজেদের দুর্বল অবস্থানে দেখাতে চাইবে না এবং আন্দোলন মোকাবিলায় আগের নীতিই অনুসরণ করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আল-জাজিরা








