Logo

ভারতের ছাত্র আন্দোলনে ঠিক যেন বাংলাদেশের ‘জুলাই’ স্মৃতি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ জুলাই, ২০২৬, ১৭:০১
ভারতের ছাত্র আন্দোলনে ঠিক যেন বাংলাদেশের ‘জুলাই’ স্মৃতি
ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দিন ধরে ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রতিবেশী দেশটির এই আন্দোলন বাংলাদেশের অনেকের কাছে দুই বছর আগের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের বর্তমান আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। আন্দোলনের বিস্তার এবং তা মোকাবিলায় প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনের পেছনে একটি বিতর্কিত মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি এক শুনানিতে ভুয়া সনদধারী কিছু ব্যক্তিকে ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মন্তব্যটি দেশের সব তরুণকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা শুরু হয়। পরবর্তীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে ওঠে, যা পরে শিক্ষার্থীদের বৃহৎ আন্দোলনের রূপ নেয়।

গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বহু আন্দোলনকারী আহত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে মুখ ঢাকা এবং পরিচয়বিহীন কিছু ব্যক্তিকেও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালাতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার সত্যতা নিয়ে দেশটিতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের সময় ভারতের কিছু মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভস্থলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা ‘গোদি মিডিয়া গো ব্যাক’ স্লোগান দেন।

এর বিপরীতে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্বাধীন ইউটিউব চ্যানেল এবং বিকল্প সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন।

শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আন্দোলনে পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, দলিতসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আন্দোলনে সংহতি জানান। কংগ্রেস, সিপিআই (এম) ও সমাজবাদী পার্টিসহ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী ও অভিভাবকদের অনেকেই আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতের কয়েকজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজসহ অনেকে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কিছু তারকা আবার সরকারের অবস্থানের পক্ষেও বক্তব্য দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও উঠে আসছে। বিক্ষোভে ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’ এবং ‘দফা এক, দাবি এক—মোদির পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের শুরুতেই এ ধরনের বৃহৎ ছাত্র ও যুব আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য প্রিন্ট, দ্য ওয়্যার

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD