Logo

ভারতকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা চলছে: দিলীপ ঘোষ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৪১
ভারতকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা চলছে: দিলীপ ঘোষ
দিলীপ ঘোষ-ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনের আড়ালে ভারতকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তার দাবি, অতীতেও এমন চেষ্টা সফল হয়নি, এবারও তা সফল হবে না।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ চলছে। ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে চলা এই আন্দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন।

এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ‘বিদেশি শক্তির পেশাদার পুতুল’ বলে আখ্যা দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং দেশকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে চায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজেপির এই নেতা বলেন, যে বিশিষ্ট চরিত্রগুলো দেখছেন, এরা কয়েক বছর ধরে একই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। কিছু লোক এখন চুপ থাকলেও তারা ধীরে ধীরে সামনে আসবে। ‘আন্দোলনজীবী’ নামধারী কিছু লোক সহজ-সরল মানুষকে সামনে রেখে বারবার দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। তাদের সহজ টার্গেট হলো পার্লামেন্টের অধিবেশন। ওই সময় সেখানে গণমাধ্যমকর্মী ও দেশের মানুষের নজর বেশি থাকে, তাই বিশেষ সুযোগটি বেছে নেওয়া হয়।

এরপরই দিলীপ ঘোষ বলেন, এরা অনেক চেষ্টা করেছে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কা বানাতে। কিন্তু সফল হয়নি, এবারও হবে না। এদের পরিণতি হবে কৃষক আন্দোলনের মতো। একই লোক—যারা কৃষক আন্দোলন করে, তারাই ছাত্র আন্দোলন করে, আবার তারাই নারী আন্দোলন করে।

বিজ্ঞাপন

বিদেশি শক্তির মদতের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা বলেন, এরা হলো বিদেশি শক্তির পেশাদার কাঠের পুতুল। তাই কিছুটা উৎপাত তো করবেই। 

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভুলে যাবেন না সরকারটা নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহর। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনকারীরা চাইছে সরকার কোনো কড়া সিদ্ধান্ত নিক, আর সেটাকে হাতিয়ার করে তারা সারা দেশে আবার হট্টগোল করবে।

আন্দোলনকারীদের বিদেশের দালাল বলে তীব্র কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, এদের পেছনে দেশের মানুষ নেই, জনতা নেই। তাই এরা বারবার নির্বাচনে হারে। কিছু দালাল টাইপের লোক বিদেশের হয়ে কাজ করছে আর সামনে এসে লাফাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এদের চিনে গেছে। শুরুতে যারা আন্দোলনে এসেছিল, সেই সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বুঝতে পেরেছে যে তাদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনজীবীরা বিদেশের টাকায় উসকানিমূলক কাজ করে দেশে উৎপাত তৈরি করে। তবে এদের দিন প্রায় শেষের দিকে। ছাত্রদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এরা বারবার স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। যেসব শিক্ষার্থী পাস করেছে, সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে—যাতে কেউ এই ধান্দাবাজদের পাল্লায় না পড়ে।

বিরোধী দল ও রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাহুল গান্ধী অতীতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এখন যারা বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক নৈতিকতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ভারতের উন্নয়ন ও ঐক্য বাধাগ্রস্ত করতে চাওয়া বিদেশি শক্তিগুলো এসব নেতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD