যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার গুঞ্জন উড়িয়ে দিল ইরান

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। শুধু তাই নয়, নিকট ভবিষ্যতেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠকে বসার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞাপন
তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
সোমবার (৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি সামরিক হামলা বন্ধ রেখে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, সোমবার থেকেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অবসান নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
তবে ট্রাম্পের ওই দাবি সরাসরি নাকচ করে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা চলছে না। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে আমরা ওমানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করেই কেবল প্রণালিটি ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আগে থেকেই অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
ইসমাইল বাঘাই ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নতুন একটি নৌপথ বা চলাচল পদ্ধতি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোই এসব আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, আঞ্চলিক ও বাইরের সব পক্ষ ইরানের এই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের গুরুত্ব বুঝবে এবং নিজেরাও গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করবে।’
বিজ্ঞাপন
ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বাঘাই বলেন, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ চালু রাখবে, ততদিন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও অপরিবর্তিত থাকবে।
ট্রাম্প ও ইরানের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এখন পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাতের সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন পরপরই ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য দেন এবং অনুমিতভাবেই, ইরানের পক্ষ থেকে আসে অস্বীকৃতি।








