শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে ভাষণ নিয়ে যা বলছে ভারত

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার মধ্যে ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই আয়োজনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বিজ্ঞাপন
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ এবং সেখানে ব্যক্ত হওয়া মতামতের দায় বা সমর্থন ভারত সরকারের নয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের যে অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান। এ আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
বিজ্ঞাপন
এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, যে ফোরামের কথা বলা হচ্ছে, সেটি সরকারি নয়। সেখানে যে কোনো মতামত প্রকাশ করা হলেও ভারত সরকার তার দায় নেবে না এবং তা সমর্থনও করে না।
এর আগে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন—এমন খবর প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মধ্যে চলমান ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। এ আমন্ত্রণ ব্রিকসের প্রচলিত নিয়ম অনুসারেই দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ভারতের পাঠানো ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২০২৭ সালে বিমসটেকের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটেও এই আমন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।








