Logo

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেছেন, এ বিষয়ে দুই দেশের আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে চুক্তির শর্ত বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসমাইল বাকেই বলেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা মিলবে না। কারণ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নিরাপত্তা এখনও বিঘ্নিত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ওমান এ প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রণালিটি ‘খুব শিগগিরই’ খুলে না দেওয়া হলে ইরান ‘ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নৌপথটি পুনরায় চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্পের এ বক্তব্য সামনে এসেছে। উভয় দেশ ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনায় প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ওমানের সঙ্গে ‘পথটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাকেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার কারণগুলো এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এবং অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী ইরনাকে বলেন, নতুন এ পথটি অস্থায়ী হবে। এটি দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটি দিয়ে নৌচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, প্রণালিটি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ইরানের হুমকি।

একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করছে। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন কোনো শুল্কই চায় না।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এ চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হতে পারে।

সূত্র : বিবিসি

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD