Logo

এবার পুলিশ স্টেশনে ধর্ষণ, ওই থানার সব কর্মকর্তা বরখাস্ত

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৩০
এবার  পুলিশ স্টেশনে ধর্ষণ, ওই থানার সব কর্মকর্তা বরখাস্ত
প্রতীকী ছবি।

পাকিস্তানের লাহোরে একটি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুরো থানার ৭৮ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৫ আগস্ট) লাহোর পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (অপারেশন্স) ফয়সাল কামরান ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে লাহোরের গাজিয়াবাদ পুলিশ স্টেশনে। পুলিশ এবং পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে থানায় নিয়ে এসেছিলেন অভিযুক্ত ওই এএসআই। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই তরুণী বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীকে পুলিশ স্টেশনে আনার পর থানা হাজতে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন ওই এএসআই।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গাজিয়াবাদ পুলিশ স্টেশনে কর্মরত ৭৮ কর্মকর্তা ও সদস্যকে সাসপেন্ড করার কারণ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ানকে ফয়সাল কামরান বলেন, ‘পুলিশবিধির অনুযায়ী, কোনো থানায় যদি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কোনো অন্যায় বা অপরাধমূলক কোনো ঘটনা ঘটে— তাহলে সংশ্লিষ্ট ওই থানার সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে তার দায়ভার নিতে হয়। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্য যখন ওই তরুণীকে স্টেশনে নিয়ে আসেন, সে সময় স্টেশনে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিল না এবং সে সময় থানায় উপস্থিত কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেননি।’

এ ঘটনায় পাকিস্তানের মানবাধিকার ও নারী অধিকার সংস্থাগুলো ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল, সংবাদ মাধ্যমও এ ঘটনা নিয়ে সরব ছিল। লাহোরভিত্তিক নারী অধিকারকর্মী ফারজানা বারি দ্য গার্ডিয়ানকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা এবং পুলিশের দীর্ঘদিনের জবাবদিহিতার অভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি প্রকট উদাহারণ। পুলিশের অসদাচরণ এবং হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন নয়। আমরা বছরের পর বছর ধরে এমন ঘটনা ঘটতে দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা এবং এটি পুলিশের দীর্ঘদিনের জবাবদিহিতার অভাবকেই প্রতিফলিত করে। এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি প্রকট উদাহরণ। পুলিশের অসদাচরণ এবং হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন নয়, এবং আমরা বছরের পর বছর ধরে এমন ঘটনা দেখে আসছি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকেই পাকিস্তানের মানবাধিকার ও নারী অধিকার সংগঠনগুলো পুলিশ হেফাজতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

বিশ্বের যেসব দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার হার উদ্বেগজনক, পাকিস্তান তাদের অন্যতম। দেশটির পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে শুধু লাহোর শহরেই ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং নারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি নারী।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD