Logo

মিয়ানমারের শরণার্থীদের পরিচয়পত্র ও কাজের সুযোগ দিচ্ছে থাইল্যান্ড

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ আগস্ট, ২০২৬, ২০:১০
মিয়ানমারের শরণার্থীদের পরিচয়পত্র ও কাজের সুযোগ দিচ্ছে থাইল্যান্ড
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ কয়েক দশক শরণার্থী শিবিরে কাটানোর পর থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত জুলাই থেকে এসব শরণার্থীকে অ-নাগরিক পরিচয়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করার সুযোগও দিচ্ছে থাই সরকার।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে বাঁচতে কয়েক দশক ধরে অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৮০ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক বসবাস করছেন।

গত জুলাই থেকে তাদের অ-নাগরিক থাই পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বাকি শরণার্থীদেরও পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

পরিচয়পত্র পাওয়ার পাশাপাশি শরণার্থী শিবিরে থাকা তরুণ-তরুণীদের বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কৃষিকাজে, আবার কেউ নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

থাইল্যান্ডের প্রাচিনবুরি প্রদেশের একটি শরণার্থী শিবিরে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে অ-নাগরিক পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন গেই লাহ। ১২ বছর আগে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের সময় মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে মিয়ানমার ছেড়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেন তিনি।

পরিচয়পত্র পাওয়ার পর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন গেই। তার স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ সঞ্চয় করবেন। এরপর জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে সেখানে বাবা-মাকে রাখবেন।

বিজ্ঞাপন

সিত নেইন আয়ে নামের আরেক তরুণও ছোটবেলায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেন। জীবনের বড় একটি সময় সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরে কাটানো এই ২৭ বছর বয়সী তরুণও পরিচয়পত্র পাওয়ার পর নির্মাণশ্রমিকের কাজ পেয়েছেন।

তিনি জানান, জীবনে এই প্রথম নিজের ভবিষ্যৎ নিজের মতো করে গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তিনি।

থাই সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি অংশকে সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তি ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে নেওয়ার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে থাইল্যান্ডের কৃষি খামার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও মিয়ানমারের শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। এর পেছনে দেশটির শ্রমবাজারে তৈরি হওয়া সংকটও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একসময় শ্রমনির্ভর বিভিন্ন কাজে থাইল্যান্ডের উদ্যোক্তারা প্রতিবেশী কম্বোডিয়া থেকে আসা শ্রমিকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতেন। তবে গত বছরের জুলাইয়ে সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রায় এক লাখ কম্বোডীয় শ্রমিকের বড় একটি অংশ নিজ দেশে ফিরে যান।

ফলে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন খাতের শ্রমবাজারে কর্মী সংকট দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণে দেশটির উদ্যোক্তারা মিয়ানমারের শরণার্থীদের কাজে নিয়োগ দিতে শুরু করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

থাই কৃষি খামারমালিক মানাস লোহসুয়ান বলেন, কম্বোডিয়ার শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তাদের পারিশ্রমিকও বেশি ছিল। অন্যদিকে মিয়ানমারের শ্রমিকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের পেছনে শ্রম ব্যয়ও কম হচ্ছে।

শরণার্থী শিবিরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ২৫ বছর বয়সী নেই লা জাও জীবনে প্রথমবারের মতো কাজের সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি কৃষি খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তার ভাষ্য, তিনি কাজ করতে চান এবং কাজ করতে তার কোনো ক্লান্তি লাগে না।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন শরণার্থী শিবিরে সীমাবদ্ধ থাকার পর পরিচয়পত্র ও বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ মিয়ানমারের এসব মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD