ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তুচ্যুত ৬৭ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে ১০ হাজার ৫০০ একরেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ২৪টি অঙ্গরাজ্য থেকে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি দমকলকর্মী কাজ করছেন। ভয়াবহ এ দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫০টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার দাবানলের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়লে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন নেভাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে দমকলকর্মীদের পাশাপাশি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করায় সোমবারের পর থেকে দাবানল মাত্র প্রায় দুই একর এলাকায় নতুন করে ছড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়া ইন্টারএজেন্সি ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের মুখপাত্র টম স্টোকসবেরি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ৬৭ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, সপ্তাহান্ত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তৈরি প্রতিরোধরেখা অক্ষত থাকলে আগুনের বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার পর্যন্ত ওল্ড ট্রেইলস ও অটাম লেন দাবানলের ১৩ শতাংশ করে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে ফেয়ারভিউ দাবানল নিয়ন্ত্রণে এসেছে ৫ শতাংশ। তিনটি দাবানলে মোট ১০ হাজার ৫৪৬ একর এলাকা পুড়ে গেছে।
স্টোকসবেরি জানান, দমকলকর্মীরা বর্তমানে ‘সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়’ পদ্ধতিতে কাজ করছেন। বিশেষায়িত ‘হটশট’ দল আগুন নতুন করে জ্বলে ওঠার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিভিয়ে দিচ্ছে। এসব কর্মী প্রতিদিন প্রায় ১৬ ঘণ্টা কাজ করছেন। বিশ্রামের জন্য তারা গড়ে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা সময় পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মাইকেল কেলি বলেন, ৮০০টির বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমান দাবানলটি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে স্পোকেনের কাছে গ্রে ও ওরেগন রোড দাবানলে প্রায় ৩৫০টি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছিল। এবারের দাবানলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ








