কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০

লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
পেরেইরা শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার প্রথমে জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ধসে পড়া ভবনের ভেতরে কয়েকজন আটকা রয়েছেন। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়ায়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কম্পন শুধু কলম্বিয়ায় নয়, প্রতিবেশী ইকুয়েডরেও অনুভূত হয়। আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌর এলাকার কাছে। স্থানটি রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল বা ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬৬ মাইল বা ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চোকো অঞ্চলের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ভূমিকম্পের পর প্রাদেশিক রাজধানী কিবদোতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন ভবনে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্ভাব্য পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
গভর্নর জানান, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র সান হোসে দেল পালমারের কাছে হলেও কিবদো শহরে ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি প্রাথমিক সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে।
বিজ্ঞাপন
ভূমিকম্পের কম্পন চোকো অঞ্চলের বাইরে রাজধানী বোগোতাতেও অনুভূত হয়েছে। পাশাপাশি কলম্বিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
চোকো গভর্নর নুবিয়া কর্দোবা আগেই সম্ভাব্য আফটারশক নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে জুনের শেষ দিকে লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই দুই ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির কথা আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি








