নারী সংকটে চীন, বিয়ের আশায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন নিঃসঙ্গ পুরুষেরা

চীনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গবৈষম্য ও জনসংখ্যাগত সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ঘটকালি সংস্থার প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন পাত্রীর সন্ধানে থাকা নিঃসঙ্গ পুরুষেরা। দ্রুত বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এসব সংস্থা বিপুল অর্থ ও পণ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে গুইঝৌ প্রদেশের গুইয়াং শহরকে ঘিরে দ্রুত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই ‘ঝটপট বিয়ে’ প্রতারণা এখন দেশজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাত্রের বয়স, আর্থিক অবস্থা কিংবা সামাজিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ঘটকালি প্রতিষ্ঠান বিয়ের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
চীনে এক সন্তান নীতি এবং ছেলেসন্তানের প্রতি দীর্ঘদিনের সামাজিক পক্ষপাতের কারণে বর্তমানে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। এর ফলে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরের ৩০ বছর পেরোনো অনেক পুরুষের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে গুইয়াং শহরের কিছু ঘটকালি সংস্থা মাত্র তিন দিনের মধ্যে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ পুরুষদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও পণ দাবি করে প্রতারণা চালিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রতারণার শিকার ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াং জানান, পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আশ্বাস পেয়ে তিনি একটি সংস্থাকে চার থেকে পাঁচ লাখ ইউয়ান প্রদান করেন। বিয়ের কয়েক মাস পরেই জানা যায়, তার স্ত্রী তিন সন্তানের মা, একাধিকবার বিবাহিত, গুরুতর ঋণে জর্জরিত এবং যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত। প্রতারণার বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার পর ঐ সংস্থা কার্যালয় বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।
আরেক ভুক্তভোগী ৫৯ বছর বয়সী শু রুলিন জানান, তিনি তার ছেলের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ইউয়ান খরচ করে বিয়ের সাত দিনের মাথায় জানতে পারেন কনে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঐ গৃহবধূ ও এজেন্সির মালিকদের গ্রেপ্তার করে।
চীনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটকালি সংক্রান্ত অপরাধে ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্প্রতি পাঁচটি সরকারি সংস্থা যৌথভাবে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতারণার শিকার বহু নিঃসঙ্গ পুরুষ এখন সর্বস্ব হারিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় গুইয়াং শহরে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্য পুরুষদের এসব ঘটকালি সংস্থার ব্যাপারে সতর্ক করছেন। চীনের জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতার সুযোগ নিয়ে বিয়েকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই প্রতারণা এখন দেশটির সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি








