১৮ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন তরুণী!

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর ১৮ তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বেঁচে গেছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। নিচে পড়ার সময় একটি গাছে আঘাত লাগায় তার পতনের গতি কমে যায়। পরে পাশের ঝোপে পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে যান তিনি।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি ঝেজিয়াংয়ের জিয়াশিং শহরে এ ঘটনা ঘটে। তরুণীর ছদ্মনাম শিয়াওই। তিনি প্রেমিকের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ১২ জুলাই স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে ১৮ তলার বারান্দা থেকে লাফ দেন তিনি।
নিচে পড়ার সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় পতনের গতি অনেকটাই কমে যায়। এরপর ঝোপের ওপর পড়ে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পান তরুণী। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর শিয়াওইকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান তার প্রেমিক। চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে তিনি ২০ হাজার ইউয়ান জমাও দেন। চিকিৎসকেরা জানান, তরুণীর মাথা, ফুসফুস, যকৃত ও প্লীহায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। পাশাপাশি শ্রোণিচক্র, পিউবিক হাড় ও দুই পা ভেঙে গেছে।
এখন পর্যন্ত তার দুটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও একটি অস্ত্রোপচার করার পরিকল্পনা রয়েছে চিকিৎসকদের।
জ্ঞান ফেরার পর ১৮ তলা থেকে লাফ দেওয়ার কারণ জানিয়েছেন শিয়াওই। তার চাচা লি জানান, ঘটনার আগে প্রেমিকের সঙ্গে একাধিকবার তার ঝগড়া হয়েছিল। গত ১০ জুলাই তিনি সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞাপন
নিজের বাড়ি ইউনান প্রদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিটও কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু ১১ জুলাই রাতে আবারও প্রেমিকের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এ সময় প্রেমিক তার পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি শিয়াওই যাতে বাসা থেকে বের হতে না পারেন, সে জন্য দরজাও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
চাচার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতভর ঝগড়ার পর শিয়াওইয়ের মাথাব্যথা শুরু হয়। তখন তার মূল চিন্তা ছিল কোনোভাবে বাসা থেকে বের হয়ে প্রেমিকের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়া। পরে নিজের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনা করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শিয়াওইয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। ২০২২ সালে তার মায়ের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসায় পরিবারের সঞ্চয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এখন পর্যন্ত শিয়াওইয়ের চিকিৎসায় এক লাখ ইউয়ানের বেশি খরচ হয়েছে। হাসপাতালের কাছে এখনও প্রায় ৬০ হাজার ইউয়ান বকেয়া রয়েছে। অনলাইন দাতব্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৯০ হাজার ইউয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে সামনে আরও অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের খরচ কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। ঘটনার পর শিয়াওইকে দেখতে প্রেমিক একাধিকবার হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা তাকে কক্ষে প্রবেশ করতে দেননি।
পরিবারের আশঙ্কা, প্রেমিককে সামনে দেখলে শিয়াওই মানসিকভাবে আরও অস্থির হয়ে পড়তে পারেন। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
শিয়াওইয়ের চাচা জানান, তরুণী যে স্থানে পড়ে যান, তার মাত্র কয়েক ফুট দূরেই ছিল কংক্রিটের মেঝে। সেখানে পড়লে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, জীবনে যত বড় সংকটই আসুক, আবেগের বশে এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: সাউথ চায়না








