হুথির ভয়ে ৬ তেলবাহী জাহাজের পথ পরিবর্তন করলো সৌদি

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পণ্য খালাস শেষে সৌদি আরবে ফেরার পথে ছয়টি বড় আকারের তেলবাহী জাহাজ নিরাপত্তার কারণে তাদের নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হুমকির পর লোহিত সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ এড়িয়ে আফ্রিকা ঘুরে গন্তব্যে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাজগুলো। সোমবার (৩ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
এলএসইজি ও মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বিভিন্ন বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পর খালি ট্যাংকারগুলোর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে দক্ষিণ লোহিত সাগর পেরিয়ে ফেরার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সেই পথ বাদ দিয়ে জাহাজগুলো এখন দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, ‘দিলাম’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারের গন্তব্য ছিল জিব্রাল্টার। তবে জাহাজগুলোর পথ পরিবর্তনের বিষয়ে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সুপারট্যাংকারে অন্তত ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জাহাজগুলো লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের বন্দরে ফিরলে যে সময় লাগত, বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করায় জাহাজগুলোর যাত্রায় অন্তত আরও ২৫ দিন যুক্ত হতে পারে।
গত ২০ জুলাই ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকেই সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা বাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকার পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে। লন্ডনের সামুদ্রিক বীমা বাজারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সৌদি আরবের কয়েকটি বন্দরের কাছাকাছি জলসীমাও এখন উচ্চঝুঁকির এলাকার আওতায় পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স








