হঠাৎ প্লেনের ভেতর দাউ দাউ আগুন, ভিডিও ভাইরাল

চীনের একটি যাত্রীবাহী বিমানে পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেবিন ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কেউ আহত না হলেও কেবিনে ধোঁয়ার কারণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের এমইউ২৪২১ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজটি লানঝৌ থেকে গুইয়াং লংদংবাও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর টার্মিনালের দিকে যাওয়ার সময় এক যাত্রীর হাতব্যাগে থাকা পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজের ওভারহেড লাগেজ কম্পার্টমেন্ট থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে কেবিন ক্রুরা দ্রুত কম্পার্টমেন্ট খুলে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর যাত্রীদের নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। একই সময়ে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জানান, কেবিনের সামনের অংশে আগুন দেখা দেওয়ার পর অনেক যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আরেক যাত্রী বলেন, পুরো ঘটনায় কেবিন ক্রুরা শান্ত থেকে সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেন এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন।
এয়ারলাইন্সটির নীতিমালা অনুযায়ী, পাওয়ার ব্যাংক কেবল কেবিন ব্যাগে বহন করা যাবে, তবে ওভারহেড লাগেজ কম্পার্টমেন্টে রাখা যাবে না। এছাড়া উড্ডয়নের সময় পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ দেওয়াও নিষিদ্ধ।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম ব্যাটারিতে আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই উড়োজাহাজে এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
লিথিয়াম ব্যাটারিজনিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের পর ২০২৫ সালের জুন থেকে চীনের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পাওয়ার ব্যাংক বহনের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএসিএ) ৩সি (China Compulsory Certification) সনদবিহীন, প্রত্যাহার করা মডেল এবং অস্পষ্ট সনদযুক্ত পাওয়ার ব্যাংক বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে হাংজৌ থেকে হংকংগামী হংকং এয়ারলাইন্সের একটি এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজেও ওভারহেড কম্পার্টমেন্টে থাকা একটি পাওয়ার ব্যাংকে আগুন লাগে। পরে সেটিকে জরুরি ভিত্তিতে ফুচৌতে অবতরণ করানো হয়। সেই ঘটনাতেও সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: গালফ নিউজ, সিএনএন








