ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম পাঠাল রাশিয়া

ইরানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। এসব সামগ্রী বহনকারী দুই ডজনের বেশি রুশ জাহাজ সম্প্রতি কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গোয়েন্দা নথি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে রুশ সহায়তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, এই চালানের ঘটনা রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ল্যামসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালিত হওয়ার পর দেশটির নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতায় প্রভাব পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের জন্য তেহরানকে মিত্র দেশগুলোর ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও একটি রুশ কোম্পানির নাম এসেছে। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজগুলো রাশিয়ার জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমজি-ফ্লোটের তৈরি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই দেশ ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে ২০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তিতে সই করে। ওই চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এর আগেও সামরিক ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করে এসেছে মস্কো ও তেহরান। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে ইরানে তৈরি শাহেদ সিরিজের আত্মঘাতী বা ‘সুইসাইড’ ড্রোন এবং বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
রাশিয়া এসব ড্রোনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা নিজেদের ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এর কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইরানি প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
তবে এবার ইরানে সামরিক সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জবাবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
রাশিয়ার অস্বীকৃতির পরও গোয়েন্দা নথি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মস্কো-তেহরান সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট








