Logo

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে টানাপোড়েন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৪৪
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে টানাপোড়েন
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ সামরিক মহড়া বড় পরিসরে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যৌথ মহড়ার ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণে অনাগ্রহকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মহড়া শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এ মহড়ায় অংশগ্রহণে তিনি সন্তুষ্ট নন। একই পোস্টে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টায় সিউল অংশ নেবে কি না। তার দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এর জবাবে নেতিবাচক অবস্থান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যৌথ সামরিক মহড়াগুলো শুধু ব্যয়বহুলই নয়, বরং এমন একটি দেশের প্রতি বৈরী বার্তা তৈরি করতে পারে, যেটি তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি এবং সম্মানজনক আচরণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবছর ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। এ বছরের মহড়াটি ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা।

তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের মধ্যেই সোমবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মহড়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক মহড়ার বিষয়ে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের বক্তব্য পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। একই সঙ্গে সিউল আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের মধ্যকার সম্পর্ক কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে ট্রাম্পের দাবি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে কোরীয় উপদ্বীপের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়াও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প এর আগেও অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার ব্যয় ভাগাভাগি এবং বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা নিয়েও ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে উত্তর কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যা দেয়।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর কয়েক দিন আগেও দেশটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্টিমসন সেন্টারের ৩৮ নর্থ কর্মসূচির প্রধান জেনি টাউনের মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতির কারণে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় ট্রাম্প কিমকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেও পরে দুই নেতা তিনটি শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন এবং চিঠি বিনিময় করেন। তবে এসব কূটনৈতিক উদ্যোগের পরও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ হয়নি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের কোরিয়া কর্মসূচির প্রধান ভিক্টর চা মনে করেন, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন। এর পেছনে ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার রাশিয়াকে ব্যাপক সহযোগিতার বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD